০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ , ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ইসলামী যুগে সাহিত্য চর্চা

আপলোড সময় : ১৬-০১-২০২৬
ইসলামী যুগে সাহিত্য চর্চা
//শরীফ আবদুল গোফরান//         (দ্বিতীয় পর্ব) কবি হাসসান ইবনে সাবিতের জন্যে মসজিদে নববীতে একটি মিম্বর স্হাপন করা হয়।তিনি সেখানে দাঁড়িয়ে স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করতেন।রাসূল(সা:)তাঁর কবিতা শুনে বলতেন, আমার পক্ষ থেকে জবাব দাও।হে আল্লাহ, রুহুল কুদ্দুসকে দিয়ে তার সাহায্য করো।তা ছাড়া রাসূল(সা:)তাকে বলেন, তুমি আবু বকরের নিকট গিয়ে কুরাইশদের দোষ-ত্রুটি ও দুর্বল দিকগুলো জেনে নাও।এ সম্পর্কে আবু বকরই অধীক জ্ঞানী।সত্যিই সেদিন হাসসান বিন সাবিত এ কাজের উপযুক্ত ছিলেন এবং অত্যান্ত নিষ্ঠার সাথে এ ক্ষেত্রে নিজের যুজ্ঞতার প্রমান দিয়েছিলেন।তাইরাসূল(সাঃ)বলেছিলেন,হাসসানের এই কবিতা তাদের জন্যে তীরের আঘাতের চেয়েও তীব্রতর। এসব কারণেই তিনি সঙ্গত ভাবেই ‘শাহরুর রাসূল বা রাসূলের (সা:)-কবি নামে খ্যাতি লাভ করেন।এ কবিতার সংঘর্ষে অপর যে দু'জন কবি তাকে সাহায্য করেন, তারা হলেন, কবি ইবনে মালিক ও আবদুল্লাহ ইবনে রাওহা। ( সিরাতে ইবনে হিশামে কবিতার এই লড়াইয়ের বিস্তারিত রয়েছে।      জাহেলি ও ইসলামী যুগের বিশিষ্ঠ কবি ছিলেন কাব ইবনে যুহায়র।তিনি ইসলাম গ্রহনের পূর্বে ইসলাম ও ইসলামের নবীর নিন্দামূলক কবিতা রচনা করে রাসূল (সা:)- এর বিরাগভাজন হন।তখন রাসূল(সা:)তাকে হত্যার নির্দেশ দেন। সে ব্যাক্তিই যখন ইসলাম গ্রহন করে মদীনায় এলেন এবং তার বিক্ষাত কাসিদা ‘বানত সূআদ’ আবৃত্তি করে রাসূল(সা:)কে শোনান,  তখন রাসূল(সা:)তাকে শুধু ক্ষমাই করেননি বরং খুশির আতিশয্যে তার সৃষ্টির প্রতিদান স্বরুপ নিজ দেহের চাদরটি তাকে উপহার দেন।        রাসূল(সা:)- এর ইন্তেকালের পর তাঁর সুযোগ্য খলীফাগন ইসলামী রাট্রের পরিচালনার ভার গ্রহন করেন।এ যুগেও কবিতা চর্চায় তেমন ভাটা পড়েনি।তখন খোলাফায়ে রাশিদীন কবিতা আবৃত্তি করতেন।রাসূল(সা:)-সাহাবীরা তো মসজিদে নববীতে কবিতার আসর বসাতেন।ইসলামী যুগে,যে সকল যুদ্ধ- বিগ্রহ হতো তাতে উভয় পক্ষে অসংখ্য কবি অংসগ্রহন করতেন এবং নিজ নিজ পক্ষের শৌর্য বীর্যের বর্ণনা ও শত্রুর উদ্দেশ্যে নিন্দামূলক কবিতা রচনা করেন। খোলাফায়ে রাশিদীনের প্রত্যেকে কবি ছিলেন।যেমন-হযরত আবু বকর (রা:) কবি ছিলেন,হযরত আলী(রা:)তিনজনের মধ্যে সৃষ্ঠ কবি ছিলেন।সে যুগের সমালোচনা সাহিত্যের ইতিহাস পাঠ করলে হযরত আবু বকর( রা:)কে একজন শ্রেষ্ঠ সাহিত্য সমালচক রূপে দেখতে পাওয়া যেতো।তিনি কবি নাবিগা আয যুবাইনিকে জাহেলী যুগের শ্রেষ্ঠ কবি মনে করতেন।তার কবিতার শিল্পকুশলতা ও ছন্দ মাধূর্যে সর্বোৎকৃষ্ট এবং  সর্বাপেক্ষা বেশী সাবলীল।         দ্বিতীয় খলিফা হযরত উমর(রা:)সম্পর্কে তো প্রসিদ্ধি আছে, কোন প্রতিনিধি দল তার কাছে এলে তিনি তাদের কবিদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করতেন। তারা তাদের কবিদের কিছু কবিতা আবৃত্তি করে শোনাত।তিনি নিজেও কোন কোন সময় সেসব কবিতার কিছু অংশ আবৃত্তি করতেন।          ইসলামের চতুর্থ খলিফা হযরত আলী (রা:)ছিলেন জ্ঞানের ভান্ডার।সে যুগের আরবের নানন্ণকবিদের মধ্যে তিনিও একজন শ্রেষ্ঠ কবি ত্যিিছিলেন।’দিওয়ানে আলী’ নামক কাব্য সংকলন গ্রন্হটি আজও তাঁর কাব্য প্রতিভার. …স্বাক্ষর বহন করে চলেছে।আরবী ভাষা ও,, সাহিত্যের উন্নতি ও উৎকর্ষ সাধনে তাঁর অবদান ও ভাষা যতদিন বেঁচে থাকবে, মানুষের নিকট তা স্মরনীয় হয়ে থাকবে। তিনি ছিলেন আরবী সাহিত্যের একজন সমঝদার সমালোচক। রাসূল(সা:)- এর খলিফাগন ছাড়াও অন্যান্য সাহাবীরাও কবিতা চর্চা করতেন।নিজেরা কবিতা শিখতেন এবং অন্যদেরকে শেখার নির্দেশ দিতেন। ( তথ্য: কবি আবদুল মান্নান সৈয়দ-এর ‘বাংলা সাহিত্যে মুসলমান ও ড. আবদুল মাবুদের সাহিত্য চর্চায় রাসূল(সা:)ও সাহাবিদের ভুমিকা।)  ( চলবে)


কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ